শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

মিয়ানমার বিষয়ক রেজ্যুলেশন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবারের মতো ‘মিয়ানমারের পরিস্থিতি’ বিষয়ক একটি রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার (২১ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রেজ্যুলেশনটি ১২-০ ভোটে অনুমোদিত হয়। রেজ্যুলেশনে মিয়ানমারে বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জরুরি অবস্থা, বন্দি মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

ভোটাভুটি পর্বে এই রেজ্যুলেশনের বিপক্ষে কোনো সদস্য ভোট অথবা ভেটো প্রদান করেনি। চীন, ভারত ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। ভোটদান শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, মেক্সিকো, গ্যাবন এবং নরওয়ে তাদের বক্তব্যে রেজ্যুলেশনটিতে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি অন্তর্ভুক্তকরণের প্রশংসা করে। তারা সমস্যা সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের জোরাল ভূমিকার দাবি জানায়।

যুক্তরাষ্ট্র তার বক্তব্যে রেজ্যুলেশনটি উত্থাপন করার জন্য যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানায়।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের অমানবিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ২০১৭ সালে ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাসহ এ পর্যন্ত ১২ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে তাদের অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করেন এবং শুরু থেকেই তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে জোরাল দাবি উত্থাপন করছেন।

রেজ্যুলেশনটি অনুমোদিত হওয়ার ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মিত কার্যকলাপের অংশ হয়ে গেল। একই সঙ্গে এটি রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত অব্যাহত প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী ও ত্বরান্বিত করবে।

রেজ্যুলেশনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করা হয়। পরিষদ রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তাদের নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানায়। মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে- বিষয়টি দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া, এ সমস্যার সমাধানে আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ২০২১ সালে গৃহীত পাঁচ দফা ঐক্যমত্যের দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং এর বাস্তবায়নে জাতিসংঘের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হবে কি-না সে বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব ও মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতকে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

উল্লেখ্য, রেজ্যুলেশনটির ‘পেন হোল্ডার (মূল স্পন্সর)’ নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য। ভারত নিরাপত্তা পরিষদের ডিসেম্বরের সভাপতি থাকাকালীন রেজ্যুলেশনটি গৃহীত হলো। এর ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় সফল হলো বাংলাদেশ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com